Bangla Articles

ওকে দেখলেই ৫২ আর ৭১ মনে পড়ে

21-februaryমালি একটা আফ্রিকান দেশ। কালো মানুষের ঘনবসতি। জীবনযাত্রায় দরিদ্রতা মিশে থাকে। ছেলেমেয়েরা বর্ণবৈষম্য নিয়েই বেড়ে ওঠে পৃথিবীর বুকে। সেখানকার একঘর মুসলিম, আচার পালন করতে জীবন বাজি রাখে। জীবনের কঠিন ফ্রেমে বন্দী করে সব সুখ। সেই পরিবারটির সব থেকে ছোট ছেলে, আলাসিন ৫ ফুট পেরিয়ে ৬ ফুট ছুঁই ছুঁই। মাথার চান্দি ছিলা নামমাত্র একগাছা কোকড়া চুল। সেদিন সেটাও ছেঁটে দিয়েছে বোকা চৈনিক নাপিত। ছেলেটি বাড়িঘরের মায়া কাটিয়ে এতদূর দেশে এসেছে পড়তে। আমার সাথেই পড়ে। একসাথে যাওয়া আসা, অল্প কথায় কিছু উত্তর, কিছু প্রশ্ন। তাও আবার কিছু চাইনিজে, কিছু ইংরেজিতে। সব সময় দেখেছি ওর শান্ত চেহারায় ভয়ের ছাপ। হাটাচলায় কিসের যেন একটা কুন্ঠা। কখনও জিজ্ঞাসা করা হয়নি। নামায, মুসলিম ক্যান্টিনের খাবার, আর একটা পাঞ্জাবী গায়ে ওর সরল চলাফেরা আমাকে বলে দিত, ওর কষ্টটা আসলে অন্য জায়গায়। কোন আনন্দ নিয়ে মেতে থাকতে দেখিনি কোনদিন। এমনকি চেষ্টা করেও সফল হইনি ।

 

বোবা বাঁশির কান্না

সকালের ঘুমের মত এত আরামের ঘুম স্বর্গেও আছে কিনা তা আমার জানা নেই। বরং সকালের ঘুমকেই আমার স্বর্গীয় মনে হয়। সেই  স্বর্গীয় ঘুমে হঠাৎ দোযখের আলামত টের পেয়ে ধড়মড় করে উঠে বসলাম। কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেল আমার বেরসিক মোবাইল ফোন কর্কশ গলায় জানান দিচ্ছে- “ঘুম থেকে ওঠো ক্লাসে যাওয়ার সময় হয়েছে”। মোবাইল ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখি ৮:২০, কিন্তু আমি তো এ্যলার্ম সেট করেছিলাম ৮:০০! বুঝতে আর বাকী রইল না এই ক্ষুদ্র যন্ত্র তার ভোকাল  কর্ডের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার করেও আমার মত গণ্ডারের ঘুম ভাঙ্গাতে পারেনি। রবার্ট ব্রুসের ন্যায় নিরাশ না হয়ে সে তৃতীয় দফায় চিৎকার করে আমার স্বর্গীয় ঘুম ভাঙ্গাতে সমর্থ হল। তড়িঘড়ি করে হাত মুখ ধুয়ে গায়ে গরম কাপড় চাপিয়ে, দৌড়ে নামলাম ছয়  তলা থেকে। নেমেই টের পেলাম আজ কপালে কী আছে, একে তো শীত তার উপর প্রচণ্ড বাতাস। ডরমিটরির গেটে টানানো আবহাওয়ার রিপোর্টে চোখ বুলাতেই দেখি আজ সর্বনিম্ন ২ আর স্বর্বোচ্চ ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই শীতে কম্বল মুড়ী দিয়ে ঘুমানোর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু বেরসিক প্রফেসর গুলোর কারনে তা আর হয়ে ওঠে না। ঠিক ক্লাসে যেয়ে দেখব আমরা পৌঁছানোর আগেই প্রফেসর হাতে একটি গরম পানির ফ্লাক্স নিয়ে বসে আছে। জাগতিক কোন সুখ-দুঃখ কি এদের স্পর্শ করে না? এদের ঈশ্বর ভাল বলতে পারবেন।

 

ছুটন্ত ঘোড়ার চিত্রকর

লেখকঃ রশীদ আমিন

xu-beihong-smallআজ থেকে সতেরো-আঠারো বছর আগের কথা – মনোরম গ্রীষ্মের বেইজিং। শীতে যখন গৃহবন্দী, গ্রীষ্মে তখন সত্যি পাখা মেলে উড়তে ইচ্ছা করে। সেই রকমই একটি দিনে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছি অজানার উদ্দেশে, যেন অনেকটা দু’চোখ যেদিকে যায় চলে যাওয়া। বৈকালিক ঝিরিঝিরি বাতাস আর গাছের ছায়ায় প্রশান্তিময় সেই সময়ে সাইকেল ভ্রমণটা যেন এক অপার্থিব আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। বিকেল মানেই সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়া। প্রকৃতির এই আনন্দযজ্ঞের আহ্বান রোখে কার সাধ্য। সেই রকম একটি দিনে সাইকেলে যেতে যেতে হঠাৎ থমকে দাড়ালাম চি শুই থান নামের জায়গায় – একটি দোতলা বাড়ির সামনে। আর চোখ আটকে গেল বাড়ির সামনের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য প্রতিকৃতির মাঝে।

 

বেইজিং-এ টার্নার

লেখকঃ রশীদ আমিন

turner-smallএ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, বেইজিং এখন বিশ্ব শিল্পকলার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বেইজিং-এর গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলেছে। পৃথিবীবিখ্যাত বড় বড় মিউজিয়ামের ট্রাভেলিং এক্সিবিশন-এর তালিকায় বেইজিং-এর নাম অনেক আগেই উঠে গেছে। বেইজিং-এর মিউজিয়ামগুলোর অবকাঠামোগত ভাবেও হয়েছে ঈর্ষণীয় উন্নতি। দু হাজার আট সালের অলিম্পিক অবশ্য বেইজিং শহরটিকেই যেন এনে দিয়েছে অন্য এক মাত্রা। ইতিমধ্যে এই শহরে ঘুরে গেছে রদ্যাঁ, দালি সহ আরো সব বিখ্যাত শিল্পীরা (মানে তাঁদের শিল্পকর্ম)। কয়েক মাস আগে দেখলাম জার্মান শিল্পী রিখটার-এর সারা জীবনের কাজ। আর এই সব প্রদর্শনীর মূল আয়োজক চীনের জাতীয় প্রদর্শনশালা “ন্যাশনাল আর্ট মিউজিয়াম অব চায়না”, আগে যার নাম ছিল চায়না আর্ট গ্যালারি। এই মিউজিয়ামটিই এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানামুখী শিল্প-কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র।

 

পরিত্যক্ত কারখানায় শিল্পের ভুবন : বেইজিং আর্ট জোন 798

লেখকঃ রশীদ আমিন
798-beijing-smallযখন থেমে গেল কারখানার বাঁশি
‘সেভেন নাইন এইট’ একটি কারখানার নাম — একসময় শ্রমিকের কোলাহলে মুখরিত হতো, কারখানার বাঁশি বেজে উঠলে শ্রমিকেরা দল বেঁধে কাজে যেত, ইঞ্জিনের ঘড়্ ঘড়্ শব্দ ছিল অতি পরিচিত, হাতুড়ির তালে তালে গান গেয়ে উঠত শ্রমিকের দল। সে ছিল এক অন্য রকম সময়। আজ আর এই চত্বরটি কারখানার শ্রমিকের পদধ্বনিতে মুখরিত হয় না, অনেক আগেই থেমে গেছে কারখানার বাঁশি। তবে এই পরিত্যক্ত চত্বরটির পুনর্জাগরণ ঘটেছে অন্যভাবে — এখন এটি চারুশিল্পের এক অভাবনীয় জগৎ। বিশ্ব জুড়ে পরিচিত একটি নাম : ‘বেইজিং আর্ট জোন সেভেন নাইন এইট।’

 

এই বেইজিং-এ এই বসন্তে

লেখকঃ রশীদ আমিন

beijing-spring-smallশীত গ্রীষ্মের পার্থক্য মোটা দাগে অনুভব করা যায় এই বেইজিং-এ বসে। শীতকালে হিমশীতল পত্রপুষ্পহীন-বৃক্ষময় রুক্ষ এক প্রকৃতি, আবার গ্রীষ্মে পত্রপল্লবে উষ্ণতায় এক অপরূপ সবুজ পৃথিবী — এই বৈপরীত্য আমাদের কাছে বিস্ময়কর। কারণ আমরা এমন এক দেশ থেকে এসেছি যেখানে শীতের প্রকোপ নেই বললেই চলে। সারা বছর গরমে দগ্ধ হতে হতে ডিসেম্বর জানুয়ারিতে আমরা যতটুকু শীতের পরশ পাই, তা আমাদেরকে একটু স্বস্তিই এনে দেয়। আমাদের দেশে এই শীতটুকু ভীষণ উপভোগ করি। পিঠে-পুলি তৈরির ধুম পড়ে যায়, সর্বত্র উৎসব উৎসব ভাব। শীতের শাক-সবজির স্বাদই যেন আলাদা, শীত মানেই আমাদের দেশে এক ধরনের সতেজতা, কি খাবারদাবার কি জীবনযাপনে যেন এক আরামদায়ক সুখী সুখী ভাব।

 


Page 1 of 2

China Bangla News

Our community member Md Faysal Bari designed a n...

Dr. Dipu Moni, Foreign minister of Banglade...

Member Login